Friday, November 20, 2020
Home আন্তর্জাতিক করোনা ভাইরাস: পাকিস্তানের তারুণ্যই কি মহামারিকে ঠেকিয়ে রেখেছে?

করোনা ভাইরাস: পাকিস্তানের তারুণ্যই কি মহামারিকে ঠেকিয়ে রেখেছে?

দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, বিশাল জনসংখ্যা এবং ঘন বসতিপূর্ণ দরিদ্র এলাকা – করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল পাকিস্তান বিপদে পড়তে যাচ্ছে।

গত জুন মাসে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে গিয়েছিল যখন প্রধান শহরগুলোর হাসপাতালগুলি রোগীদের উপচে পড়ছিল। বড় হাসপাতালগুলির ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটগুলো বোঝাই হয়ে গিয়েছিল এবং একটি বেড খুঁজে পাওয়ার জন্য রোগীর আত্মীয়স্বজন ছুটোছুটি করছিল।

কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পরে রোগীর ভর্তি সংখ্যা হঠাৎ করেই কমে যায়।

প্রথম দিকে অনেক ডাক্তারের মনে এ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। তারা ভাবছিলেন, হাসপাতালে রোগীদের ‘বিষ’ দিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে বলে যে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়েছে তার জন্যই কি রোগীরা হাসপাতালে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে? কিন্তু পরের কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ক্রমাগত কমতে থাকে।

প্রায় ২৩ কোটি মানুষের দেশ পাকিস্তানে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা এপর্যন্ত প্রায় ৬,০০০ জন। অনেক পশ্চিমা দেশের তুলনায় পাকিস্তানের অবস্থা ভাল। যেমন, ব্রিটেনের জনসংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৭০ লক্ষ। সে দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা এপর্যন্ত ৪১ হাজারেরও বেশি। পাকিস্তানের প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধান দুই শহর দিল্লি এবং মুম্বাইয়ে মৃত্যুর হার অনেক বেশি।আর পাকিস্তানের এই দৃশ্যমান সাফল্য এসেছে লকডাউনের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও। তিনি বলেছিলেন, এটা করা হলে ‘দেশের মানুষ না খেয়ে থাকবে।’

লকডাউনের মধ্যে পেশাওয়ারে চলছে সিনেমা হল।

লকডাউনের মধ্যে পেশাওয়ারে চলছে সিনেমা হল।কিন্তু প্রশ্ন হলো পাকিস্তানের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

করোনাভাইরাস পরীক্ষার হার তুলনামূলকভাবে কম। পরীক্ষার সংখ্যাও কমে আসছে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী পাকিস্তানের মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দুই লক্ষ ৯০ হাজার বলা হলেও প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে বেশি, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। কিন্তু সংক্রমণের হার কমে যাওয়ার পেছনে পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রমাণ রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও কমেছে।

পাকিস্তানের দুটি প্রধান শহর করাচি এবং লাহোর থেকে  যে উপাত্ত সংগ্রহ করেছে তা পর্যালোচনা করে জানা যাচ্ছে, জুন মাসে শহর দুটির কবরস্থানে দাফনের সংখ্যা বেড়ে গেলেও এর পেছনে শুধু করোনাভাইরাস দায়ী একথা বলা যায় না।

যেমন, লাহোরের সবচেয়ে বড় গোরস্থান মিয়ানি সাহিবে ২০২০ জালের জুন মাসে ১,১৭৬ জনকে কবর দেয়া হয়েছে। তার আগের বছর জুন মাসে এই সংখ্যা ছিল ৬৯৬।

এর মধ্যে জুন মাসে যাদের কবর হয়েছে তাদের মধ্যে ৪৮ জনকে করোনাভাইরাসে রোগী হিসেবে সরকারি নথিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংখ্যাটি বেড়ে যাওয়ার পেছনে কারণে হিসেবে করোনাভাইরাস ধরা পড়েনি এমন রোগী, অন্যান্য রোগে ভুগে প্রাণত্যাগ করেছেন এমন রোগীও রয়েছেন। এদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে জায়গা পাননি।

পাকিস্তানে ৬৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সীদের হার ৪%-এরও কম।

পাকিস্তানে ৬৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সীদের হার ৪%-এরও কম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর নেই

বাংলাদেশের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার...

রাজধানীতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু

ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে রিপন (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রিপন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আব্দুর রহমানের ছেলে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে মিরপুর বড় মসজিদের...

করোনা ভাইরাস: পেশাগত পরীক্ষায় কেন অটো প্রমোশন চান মেডিকেল শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত পাঁচ মাস ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন মেডিকেলের এমবিবিএস শিক্ষার্থীরা। গত মে মাসে তাদের প্রফেশনাল বা ফাইনাল পরীক্ষা হবার কথা ছিল। কিন্তু...

ভারতীয় ক্রিকেটার কপিল দেব হৃদরোগে আক্রান্ত

কিংবদন্তি ভারতীয় ক্রিকেটার এবং ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক কপিল দেব হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নয়াদিল্লির হাসপাতালে অ্যানজিওপ্লাস্টি করিয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, মহামারির আগে সাম্প্রতিক সময়ে...

Recent Comments